হিন্দুদের লাশ পোড়ানোয় মুসলিমের অংশগ্রহণ: ধর্মতত্ত্ব কি বলে? আন-নূর নিউজ
আন-নূর নিউজ ডেস্ক:
প্রশ্ন:
আমাদের এলাকায় একজন হিন্দু ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হাসপাতাল থেকে তার আত্মীয়-স্বজন ভয়ে লাশ নিয়ে আসতে যায়নি। এজন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষ একটি সামাজিক সংগঠনকে খবর দেয়। তাঁরা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে থাকেন।
সংবাদ পেয়ে সামাজিক সংগঠনটির লোকজন এসে লাশ নিয়ে যায়। এবং লাশটি হিন্দুদের শ্মশানঘাটে পৌঁছে দেয়। শ্মশানঘাটের কর্মচারীরা লাশ পোড়ানোর ব্যবস্থা করে। মৃতব্যক্তির এক আত্মীয় সংসবাদ পেয়ে শ্মশানঘাটে আসে। কিন্তু ভয়ে সে লাশের গায়ে আগুন দিতে পারছিল না। তাই সামাজিক সংগঠনেরই একজন তাকে আগুন দিতে সাহায্য করে। সাহায্যকারী মুসলিম। সে হিন্দুব্যক্তিকে একটু পিছনে রেখে নিজে লাকড়ির একটু সামনের অংশ ধরে লাশের গায়ে আগুন দেয়।
উত্তর:
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, এবং সৃষ্টির মাঝে সম্মানীত করেছেন। এজন্য মারা যাওয়ার পরও একজন মানুষকে মাটিতে কবর দেওয়া ইসলামের বিধান। মারা যাওয়ার পর মানুষকে পোড়ানো অসম্মানের কাজ। সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম।
বর্তমান বৈশ্বিক নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ক্রান্তিকালে মুসলিম-অমুসলিম সবাই মারা যাচ্ছে। মুসলিম কেউ মারা গেলে তাঁর দাফন-কাপন মুসলিমরাই করবে। আর অমুসলিম কেউ মারা গেলে তার মৃত্যু পরবর্তী কাজগুলো তার ধর্মের লোকেরাই করবে। যদি অমুসলিম মৃতের আত্মীয়-স্বজন কাউকে না পাওয়া যায়; তাহলে মুসলিমরা তার লাশকে মৃতের ধর্মালম্বী কারোর নিকট অর্পণ করবে। নিজেরা লাশ পুড়ানোর জন্য শ্মশানে বা যেই স্থানে লাশ পুড়ানো হয় সেখানে নিয়ে যাবে না।
যদি এমন কাউকেও না পাওয়া যায়। আর লাশ পঁচে নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষণের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয়; তাহলে মুসলিমরা তার লাশকে শ্মশানের কর্মচারীদের নিকট অর্পণ করবে। কিন্তু মুসলিমরা কখনোই নিজ হাতে লাশের গায়ে আগুন দেওয়া তথা মুখাগ্নি করবে না। এবং লাশ পোড়ানোর সময় উপস্থিত থাকবে না। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আগুন দ্বারা কেবল আগুনে সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ তায়ালা) শাস্তি দেন।’ (আবু দাউদ)
আর মুখাগ্নি করা অমুসলিদের একটি ধর্মীয় রিচুয়াল। একজন মুসলিমের জন্য অমুসলিদের ধর্মীয় কাজে উপস্থিত হওয়া এবং তাতে অংশগ্রহন করা বৈধ নয়।
المصادر و المراجع:
قال الله تعلى:ولقد كرمنا بني آدم. (سورة: بني إسرائيل: 70)
وقال الله تعلى: ولا تصل على أحد منهم مات أبدا ولا تقم على قبره. (سورة: التوبة:84).
في روح المعاني: ( 10/155) أي لاتقف عليه ولاتتول دفنه.
حدثنا سعيد بن منصور، حدثنا المغيرة بن عبد الرحمن، عن أبي الزناد، قال: حدثني محمد بن حمزة الأسلمي، عن أبيه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمره على سرية، فخرجت فيها فقال: " إن أخذتم فلانا فأحرقوه بالنار "، فلما وليت ناداني، فقال: " إن أخذتموه فاقتلوه، فإنه لا يعذب بالنار، إلا رب النار ". ( سنن أبي داود: الرقم: 2675: باب في كراهية حرق العدو بالنار، مسند أحمد: الرقم: 16034، 25/ 424 الرسالة)
وفي بدائع الصنائع:( 5/554، طبعة: دار الحديث، ودار الكتب العلمية: 5/571).
ويجوز الاستئجار لنقل الميتات والجيف والنجاسات؛ لأن فيه
رفع أذيتها عن الناس، فلو لم تجز لتضرر بها الناس. وقال ابن رستم: عن محمد أنه قال: لا بأس بأجرة الكناس، أرأيت لو استأجره ليخرج له حمارا ميتا، أما يجوز ذلك، ويجوز الاستئجار على نقل الميت الكافر إلى المقبرة؛ لأنه جيفة فيدفع أذيتها عن الناس كسائر الأنجاس.
وفي المحيط البرهاني: ( 2/326، طبعة: الحقانية، 2/195 طبعة: دار الكتب العلمية).
وإنما يقوم المسلم بغسل قريبه الكافر وتكفينه ودفنه إذا لم يكن هناك من يقوم به من المشركين، فإن كان هناك أحد من قرابته على ملته، فإن المسلم لايتولى بنفسه بل يفوض إلى أقربائه المشركين ليصنعوا به ما يصنعون بموتاهم.
وفي فتاوي محمودية: 13/272.
پڑوسی کافر بیمار ہو تو اس کی عیادت کرنا اور اس کے ساتھ احسان کا معاملہ کرنا تو ثابت ہے ـ لیکن ارتھی پکڑنا اور اسکو جلانے کیلۓ مرگھٹ جانا ثابت نہیں ـ اس سے بچنا لازم ہے اسی طرح سے بر عکس ـ فقط واللہ اعلم۔
هكذا في الذخيرة البرهاني:(2/462، طبعة: دار الكتب العلمية)
وفي التاتارخانية: (2/ 78، طبعة: زكريا)
-শারাফাত শরীফ
দারুল ইফতা
জামিয়া ইসলামিয়া
লালমামাটিয়া, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা: ১২০৭
তারিখ: ১৩ রমযান, ১৪৪১হি,
৬ মে ২০২০ ঈ.
Post a Comment